[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

‘ডিপ স্টেট’ কারা, ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাবে কী ছিল: জানালেন আসিফ নজরুল

প্রকাশঃ
অ+ অ-
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া | ফাইল ছবি

‘ডিপ স্টেট’ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—সেই সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার এমন বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। কখন, কী শর্তে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বা ‘ডিপ স্টেট’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে—এখন সেই প্রশ্নও উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল আসিফ মাহমুদের কাছে। তিনি বিকেলে বলেন, ‘ডিপ স্টেটে বৈদেশিকসহ অনেকগুলো পক্ষ ছিল। তাই সুনির্দিষ্ট করে কারও নাম আমি উল্লেখ করতে চাই না।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র। তিনি বিকেলে ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তৃতা দেন।

সেই বক্তৃতায় আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যাদের আসলে “ডিপ স্টেট” বলা হয়, তাদের থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে আপনারা শেখ হাসিনা সরকারের মেয়াদ ২০২৯ পর্যন্ত শেষ করুন। আপনারা শেষ করুন, আমরা সহযোগিতা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিপ স্টেট-এর কিছু শর্ত ছিল। তাদের কিছু কিছু জায়গায় সুবিধা দেওয়া হতো। তারা পুরো রোডম্যাপও নিয়ে এসেছিল। যেমন, বিএনপির নেতাদের কিছু সাজা আছে; সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলে তারা অংশ নিতে পারবে না। সেই সাজাগুলো আদালতের মাধ্যমে দীর্ঘায়িত করা, আদালতের ডেট ঘুরিয়ে দেওয়া—তারেক রহমানের নামেও সাজা ছিল। সে যদি সাজাপ্রাপ্ত থাকত, নির্বাচন হলেও অংশ নিতে পারত না।’

কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়, সেই কৌশল সাজানো হয়েছিল—এটি উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা এতে সায় দিইনি। আমরা সবসময় গণতন্ত্রকে সামনে রেখেছি। সেই কমিটমেন্টই অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল। তাই নির্বাচন স্বচ্ছ হয়, সে জন্য আমরা নিজেরা পদত্যাগ করে চলে এসেছি।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম তিন-চার-পাঁচ মাসে বিভিন্ন আলোচনায় ডিপ স্টেটের দিক থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, তাদের কিছু স্বার্থ রক্ষা করলে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে দীর্ঘদিন রাখতে আগ্রহী। দেন-দরবারের অংশ হিসেবে তাদের কাছে আমাদের সংযোগ করা হয়েছিল, হয়তো অন্য উপদেষ্টাদের সঙ্গেও তারা কথা বলেছিল।

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, ওই প্রস্তাবে আওয়ামী লীগের কঠোর শাসনের কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়ার বিষয়টিও ছিল। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ডিপ স্টেটের সেই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখায়নি। সরকার নির্বাচনের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। ফলে তারা সমঝোতায় যায়নি।’

তবে এই ডিপ স্টেট কারা, সেটা আসিফ মাহমুদ স্পষ্টভাবে বলেননি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে পাঁচ সপ্তাহ আগে। আসিফ মাহমুদ ছাড়া ওই সরকারের আর কোনো উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত ডিপ স্টেট বা ২০২৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাবের কথা বলেননি।

তবে এনসিপির আহ্বায়ক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ১০ মার্চ রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে ডিপ স্টেট জড়িত ছিল।’ তিনিও স্পষ্টভাবে বলেননি ডিপ স্টেট কারা।

সাধারণত সরকারের বাইরে থেকেও রাষ্ট্রের নীতি ও ক্ষমতার ওপর প্রভাব খাটাতে সক্ষম প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে বোঝাতে ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো নয়, রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যবহৃত একটি ধারণা। আসিফ মাহমুদের উল্লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে ডিপ স্টেট বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন